EMI (Equated Monthly Installment) হিসাব করা হয় হ্রাসমান ব্যালেন্স পদ্ধতিতে। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কিস্তি দিতে হয়, যার মধ্যে সুদ ও মূলধনের অংশ থাকে। কিস্তির পরিমাণ পুরো মেয়াদে একই থাকে, তবে প্রতি মাসে সুদের অংশ কমতে থাকে এবং মূলধনের অংশ বাড়তে থাকে। সূত্র: EMI = P × r × (1+r)^n / ((1+r)^n - 1), যেখানে P = লোনের পরিমাণ, r = মাসিক সুদের হার, n = মোট কিস্তি সংখ্যা।
হোম লোনের সুদের হার সবচেয়ে কম (৮-১০%), মেয়াদ ২৫ বছর পর্যন্ত, এবং ডাউন পেমেন্ট ২০%। কার লোনের সুদ ৯-১২%, মেয়াদ ৭ বছর, ডাউন পেমেন্ট ২০%। পার্সোনাল লোনের সুদ সর্বোচ্চ (১০-১৪%), মেয়াদ ৫ বছর, এবং ডাউন পেমেন্টের প্রয়োজন নেই। এছাড়া হোম লোনে জামানত হিসেবে বাড়ি থাকে, যা ঝুঁকি কমায়।
লোনের সুদ কমানোর উপায়: ১) যত বেশি সম্ভব ডাউন পেমেন্ট দিন (লোন কম হবে), ২) মেয়াদ কম রাখুন (মাসিক কিস্তি বাড়বে কিন্তু মোট সুদ কমবে), ৩) বিভিন্ন ব্যাংকের রেট তুলনা করুন, ৪) সময়ে সময়ে আংশিক প্রি-পেমেন্ট করুন, ৫) ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন, ৬) সরকারি ব্যাংকে কম সুদ পাওয়া যেতে পারে।
প্রসেসিং ফি হলো লোন আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যাংক কর্তৃক নেওয়া এককালীন চার্জ। এটি সাধারণত লোনের পরিমাণের ১-৩% পর্যন্ত হতে পারে। হোম লোনে ১-২%, কার লোনে ১-১.৫%, এবং পার্সোনাল লোনে ১-৩% প্রসেসিং ফি ধরা হয়। কিছু ব্যাংক বিশেষ অফারে প্রসেসিং ফি মওকুফ করে।
হ্রাসমান ব্যালেন্স পদ্ধতি ফ্ল্যাট রেট থেকে ভালো, কারণ এতে আপনি শুধু বকেয়া মূলধনের উপর সুদ দেন। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদে একই সুদ ধরা হয়। উদাহরণ: ১০% ফ্ল্যাট রেট ≈ ১৮% হ্রাসমান ব্যালেন্স রেটের সমান। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো হ্রাসমান ব্যালেন্স পদ্ধতি ব্যবহার করে।
প্রি-পেমেন্ট বা আংশিক আগাম পরিশোধ করলে: ১) মোট সুদের পরিমাণ কমে যায়, ২) লোনের মেয়াদ কমে অথবা মাসিক কিস্তি কমে, ৩) দ্রুত ঋণমুক্ত হওয়া যায়। তবে কিছু ব্যাংক প্রি-পেমেন্টের জন্য ১-২% চার্জ কাটতে পারে। লোন নেওয়ার সময় প্রি-পেমেন্ট শর্ত জেনে নিন।
ব্যাংক সাধারণত আপনার মাসিক আয়ের ৪০-৫০% পর্যন্ত EMI মঞ্জুর করে। উদাহরণ: মাসিক আয় ৫০,০০০ টাকা হলে EMI ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ক্রেডিট স্কোর, বয়স, চাকরির স্থায়িত্ব ও জামানত বিবেচনা করা হয়।