জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর সর্বশেষ স্ল্যাব অনুযায়ী আয়কর হিসাব — পুরুষ, নারী ও সিনিয়র সিটিজেনের জন্য আলাদা করমুক্ত সীমা, বিনিয়োগ করছাড় (3% রিবেট) ও সম্পূর্ণ স্ল্যাব ব্রেকডাউন সহ।
পুরুষ করদাতাদের জন্য বার্ষিক 350000 টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। নারী ও ৬৫+ বয়স্ক সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য 400000 টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য করমুক্ত সীমা আরও বেশি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর স্ল্যাব: করমুক্ত সীমার পর প্রথম স্ল্যাবে ৫%, পরবর্তীতে ১০%, ১৫%, ২০%, এবং বাকি আয়ের উপর 25% কর প্রযোজ্য। নারী ও সিনিয়রদের স্ল্যাব কিছুটা ভিন্ন (করমুক্ত 400000 টাকা)।
TIN হলো করদাতার ইউনিক পরিচিতি নম্বর। বিনিয়োগ করছাড় পেতে, সঞ্চয়পত্রে কম উৎসে কর দিতে, ব্যাংক লোন নিতে এবং বিভিন্ন সরকারি সেবায় TIN বাধ্যতামূলক। TIN ছাড়া সঞ্চয়পত্রে ১৫% কর কাটা হয়, TIN থাকলে ১০%। বিনামূল্যে https://etaxnbr.gov.bd/ থেকে TIN রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
সঞ্চয়পত্র, DPS, শেয়ারবাজার (IPO), বীমা প্রিমিয়াম ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে কর রিবেট পাওয়া যায়। করযোগ্য আয়ের 25% বা সর্বোচ্চ 15000000 টাকা (যেটি কম) পর্যন্ত বিনিয়োগের উপর 3% কর রিবেট পাওয়া যায়। উদাহরণ: ৬ লাখ আয়ে ১.৫ লাখ বিনিয়োগ করলে ৪,৫০০ টাকা রিবেট পাবেন।
করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলে নূন্যতম কর প্রযোজ্য: ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ৫,০০০ টাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশনের (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা) জন্য ৪,০০০ টাকা এবং সিটি করপোরেশন বহির্ভূত এলাকার জন্য ৩,০০০ টাকা।
ব্যক্তিগত করদাতার জন্য কর দিবস ৩০ নভেম্বর। কোম্পানির জন্য ১৫ জানুয়ারি (আগামী বছর)। অনলাইনে https://etaxnbr.gov.bd/ থেকে খুব সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা ও সুদ প্রযোজ্য হতে পারে।
যেসব বিনিয়োগে করছাড় পাওয়া যায়: ১) সঞ্চয়পত্র, ২) DPS (Deposit Pension Scheme), ৩) শেয়ারবাজারে IPO-তে বিনিয়োগ, ৪) জীবন বীমা প্রিমিয়াম, ৫) মিউচুয়াল ফান্ড, ৬) স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড। প্রতিটি বিনিয়োগের ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করুন।