DPS (Deposit Pension Scheme) হলো মাসিক কিস্তি জমার একটি সঞ্চয় প্রকল্প। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখতে হয় এবং মেয়াদ শেষে চক্রবৃদ্ধি সুদসহ সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ১০ বছর মেয়াদে মাসিক ৫,০০০ টাকা করে জমা দিলে আপনি মেয়াদ শেষে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা পেতে পারেন। এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য আদর্শ।
বর্তমানে (২০২৬) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মুদারাবা DPS-এ সর্বোচ্চ ৯.০০% পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায় (১০ বছরের জন্য)। ব্র্যাক ব্যাংক ৮.৭৫% এবং ডাচ-বাংলা ও সিটি ব্যাংক ৮.৫০% সুদ দিচ্ছে। তবে সুদের হার পরিবর্তনশীল, তাই DPS খোলার আগে সর্বশেষ হারের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করা ভালো।
বেশিরভাগ ব্যাংকে ন্যূনতম মাসিক কিস্তি ৫০০-১,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়। ইসলামী ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে ৫০০ টাকা, এবং ব্র্যাক, ডাচ-বাংলা ও সিটি ব্যাংকে ১,০০০ টাকা ন্যূনতম কিস্তি। আপনি চাইলে এর চেয়ে বেশি যেকোনো পরিমাণ (৫০০-এর গুণিতক) জমা দিতে পারেন।
বাংলাদেশে DPS-এর মেয়াদ সাধারণত ৩, ৫, ৮ বা ১০ বছর হয়ে থাকে। মেয়াদ যত বেশি হবে, চক্রবৃদ্ধি সুদের কারণে মুনাফাও তত বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, একই মাসিক কিস্তিতে ১০ বছরের DPS-এর মুনাফা ৩ বছরের তুলনায় প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি হতে পারে।
পরপর ৩ মাস কিস্তি জমা দিতে ব্যর্থ হলে DPS অ্যাকাউন্ট বাতিল বা "ডিফল্ট" হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আপনি জমাকৃত টাকা কম সুদে ফেরত পাবেন। কিছু ব্যাংক বিশেষ ক্ষেত্রে জরিমানা (সাধারণত বকেয়া কিস্তির ৫%) সহ পুনরায় চালু করার সুযোগ দেয়। তবে ইসলামী ব্যাংকে এমন নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
এককালীন বড় অংকের টাকা (যেমন: ১ লক্ষ+) থাকলে FDR ভালো, কারণ পুরো টাকার উপর শুরু থেকেই সুদ পাওয়া যায়। আর যাদের মাসিক ছোট ছোট করে সঞ্চয় করার অভ্যাস আছে বা নিয়মিত আয় থেকে সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য DPS আদর্শ। আমাদের Compare টুল দিয়ে দুটির রিটার্ন পাশাপাশি তুলনা করতে পারেন।
ইসলামী ব্যাংকের DPS মুদারাবা নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে সুদের পরিবর্তে "মুনাফা" প্রদান করা হয়। ব্যাংক আপনার জমাকৃত টাকা বিনিয়োগ করে এবং লাভের একটি অংশ আপনাকে প্রদান করে। মুনাফার হার পূর্বনির্ধারিত নয়, তবে সাধারণত ঘোষিত হারের কাছাকাছি থাকে। এটি ইসলামী শরিয়াহ-সম্মত।
DPS অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজন: ১) জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ২) ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ৩) নমিনির ছবি ও NID কপি, ৪) ইউটিলিটি বিল (ঠিকানা প্রমাণের জন্য), ৫) TIN সার্টিফিকেট (৫০,০০০+ টাকার কিস্তির জন্য)। কিছু ব্যাংকে অনলাইনেও আবেদন করা যায়।